এন.এম হামিদী বাবু,নীলফামারী
নীলফামারীতে তিস্তা সেচ ক্যানেলের দিনাজপুর খালের বাঁধ ভেঙে শতাধিক একর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ভাঙনের ফলে ক্যানেলের পাশ্ববর্তী অন্তত শতাধিক একর জমির সরিষা, বোরো বীজতলা, ভুট্টা, আলু ও রবি শস্য পানিতে তলিয়ে গেছে।
গতকাল বেলা ১২টার দিকে নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের কামারপাড়া নামক স্থানে দিনাজপুর ক্যানেলের ডানপাড়ের তীর বাঁধে এ ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এতে ওই ক্যানেলের অন্তত ২০ ফিট ভেঙে যায়। ক্যানেলে সংলগ্ন এক বাড়ির কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, চলতি বোরো মৌসুমের (খরিপ-১) তিস্তা সেচ প্রকল্প থেকে ১৫ জানুয়ারি হতে পানি দেয়া শুরু হয়। ওই সেচের পানি পেয়ে তিস্তার কমান্ড এলাকার দিনাজপুর ক্যানেলের দুই ধারে কৃষকরা বোরো আবাদের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে চারা রেপন করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ফসলে সেচ দিচ্ছেন। এ অবস্থায় বেলা ১২টা দিকে ক্যানেলের ডান তীর বাঁধ ভেঙে আমার জমিসহ আশপাশের অন্তত শতাধিক একর জমিতে পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছে।
সিংদই গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত বাড়ি থেকে এসে দেখি আমার ১০ বিঘা জমির ফসল পানির নিচে ডুবে রয়েছে। সেই সঙ্গে এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পাঁচ বিঘা জমিতে লাগানো আলুর ক্ষেতেও শেষ।
একই গ্রামের কৃষক রজব আলী জানান, ঘটনার পর পরই নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ফোন করা হয়। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর নামমাত্র সংস্কার করে ক্যানেল। এতে ক্যানেলের তীর ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনিসহ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা।
ওই এলাকার কৃষক শরিফ ইসলাম, শফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে জানান, এর আগে ২০১৫ ও ২০২৪ সালেও ক্যানেলের বাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছিল। এতে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ওই এলাকার নীলফামারী - পঞ্চপুকুর সড়কটি অবরোধ করে ক্ষতিপুরণের দাবি তুলেছে। সেখানে নীলফামারীর পানি উন্নয়ন বোডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান গেলে তাকে কৃষকদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।
নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান, যতদুর ধারনা ওই স্থানে ইঁদুরের গর্তের সৃষ্টি হয়ে ছিল। সেচের জন্য ক্যানেলে পানি ছাড়ায় ইঁদুরের গর্ত অথবা চোরা পাইপের কারণে ক্যানেলে তীর বা পাড় ২০ ফিট বিধ্বস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভাঙন সংবাদ পাওয়ার পরপরই ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ভাঙনস্থানে বালির পলি ব?্যাগ নিয়ে গেলেও ভাঙাস্থানে প্রচুর পানির স্রোত এবং সন্ধ্যা ৬টা পযর্ন্ত স্থানীয় লোকজনের হট্টগলোর কারণে আমাদের লোকজন কাজ শুরু করতে পারেনি।
তিনি বলেন, যেহেতু সেচ নির্ভর বোরো আবাদ শুরু হয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুত বিধ্বস্ত স্থানটি মেরামত করে সেচ কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে পারবো। তবে দিনাজপুর ক্যানেলে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও সেচ প্রকল্পের রংপুর ও বগুড়া ক্যানেলে সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প থেকে চলতি খরিপ-১ বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ১৫ জানুয়ারি হতে শুরু হয়। এতে ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষমাত্রা ধরেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। এরমধ্যে নীলফামারী জেলার ৩৭ হাজার ৩০০ হেক্টর, রংপুর জেলায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর ও দিনাজপুর জেলার ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমি সেচ পাবে। সুত্র মতে চলতি খরিপ-১ মৌসুমে কমান্ড এলাকায় টানা মে মাস পর্যন্ত ৫ মাস বোরো ও রবি মৌসুমের জন্য কৃষকরা তিস্তার সেচ পাবেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata